২০১৪ সালের রায়পুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আমার রাজনৈতিক জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সে সময় দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের জোরজুলুম ও নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছিল। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার চরম হুমকির মুখে। ঠিক এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমি রায়পুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী (তালা প্রতীক) হিসেবে অবতীর্ণ হই।
জনসমর্থনের এক অভূতপূর্ব জোয়ার
নির্বাচনটা কোনোভাবেই সুষ্ঠু ছিল না। পদে পদে বাধা, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-মামলা এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মাঝেই রায়পুরের আপামর জনসাধারণ আমাকে ভালোবেসে অভাবনীয় এক সমর্থন জানিয়েছিল।
ভোট কারচুপি এবং প্রশাসনের অপব্যবহারের পরেও, ব্যালট বাক্সে আমি ৩০ হাজারের অধিক ভোট পেয়েছিলাম। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, আমার প্রাপ্ত ভোট সেবারের চেয়ারম্যান প্রার্থীর চেয়েও বেশি ছিল। এই ভোটগুলো নিছক কোনো সংখ্যা ছিল না; এটি ছিল আমার প্রতি রায়পুরবাসীর অকৃত্রিম বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং আস্থার চূড়ান্ত নিদর্শন।
"ক্ষমতার দাপটে তারা হয়তো ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে পেরেছিল, কিন্তু রায়পুরের ৩০ হাজারেরও অধিক মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও ম্যান্ডেট তারা কেড়ে নিতে পারেনি।"
ভোট কারচুপি ও সত্যের লড়াই
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পন্থী প্রার্থীরা যখন বুঝতে পারল যে সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি নিশ্চিত, তখন তারা জঘন্যতম ভোট জালিয়াতির আশ্রয় নিল। ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের ভয় দেখিয়ে তারা জোরপূর্বক তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করল। কিন্তু প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আমার এজেন্টদের কাছে থাকা ভোট গণনার স্লিপগুলোই প্রমাণ দেয় যে, আসল বিজয় কার হয়েছিল।
ভোটের প্রামাণ্য নথিপত্র গ্যালারি
নিচে প্রদত্ত স্লিপগুলোতে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে প্রতিটি কেন্দ্রে আমার পক্ষে পড়া বিপুল ভোটাধিক্য, যা পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হয়েছিল।



আগামীর শপথ
সেদিন অন্যায়ের প্রতিবাদে আমি একবিন্দুও ছাড় দিইনি। আমি জানতাম, এই অসম লড়াইয়ে হয়তো ক্ষমতার কাছে সত্য সাময়িকভাবে পরাজিত হবে, কিন্তু আমি নির্বাচনের মাঠে ছিলাম শেষ বিন্দু পর্যন্ত। এর কারণ একটাই, জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে আমি কখনোই পালিয়ে যাইনি।
এই ইতিহাস আমাকে আজ আরও দৃঢ় করে তুলেছে। যিনি অন্ধকারতম সময়েও মানুষের এতটা আস্থা অর্জন করতে পারেন, তিনি আগামী দিনের যেকোনো দায়িত্বভার গ্রহণ করতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত। সামনের উপজেলা নির্বাচনে এই ইতিহাসই আমাকে নতুন করে লড়াই করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে; এই ইতিহাসই বলে দিচ্ছে, যোগ্যতমের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এখনই।

